August 9, 2026, 9:38 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় নেজাম উদ্দিন (৪৫) নামের একজন ডাকাত নিহত হয়েছে। পেকুয়া থানা পুলিশ নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। তাকে গুলি ছোড়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে নিহত করা হয়েছে। ২৩ এপ্রিল (শুক্রবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভারুয়াখালী দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় হত্যাকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। শনিবার ২৪ এপ্রিল সকালের দিকে পেকুয়া থানা পুলিশ ভারুয়াখালীর পাহাড়ের যাতায়াতের মেটোপথ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পেকুয়া থানার ওসি সাইফুর রহমান মজুমদার মরদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ সাইফুর রহমান মজুমদার জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত নেজাম উদ্দিন বারবাকিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড পূর্ব ভারুয়াখালী গ্রামের ছব্বির আহমদের ছেলে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ওই দিন রাতে নেজাম উদ্দিনসহ আরো ৪/৫ জন তার অনুগত ব্যক্তি শিলখালী ইউনিয়নের পূর্ব ভারুয়াখালী পাহাড়ে আবুল নামক ব্যক্তির দোকানে বসে চা নাস্তা করেন। এ সময় নেজাম উদ্দিন, বারবাকিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জাফরের ছেলে পাহাড়িয়াখালীর জমির. একই ইউনিয়নের পূর্ব ভারুয়াখালীর আবু ছিদ্দিকের ছেলে মামুন, শিলখালী ইউনিয়নের পূর্ব ভারুয়াখালীর মাহাবুব আলীর পুত্র জোবাইর, টইটংয়ের মধুখালীর বাসিন্দা বর্তমানে ভারুখালীতে বসবাসকারী পিতার নাম অজ্ঞাত জোবাইর প্রকাশ কালা জোবাইরসহ কয়েকজন মিলে পাহাড়ের দুর্গমে আবুলের দোকানটিতে বসে আড্ডা দিয়েছিলেন। চা নাস্তার বিল জাফর মেম্বারের ছেলে জমির প্রদান করেন। এরপর রাত দেড়টার দিকে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ভারুয়াখালীর স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছে। পাহাড়ী এলাকার লোকজন জানান, নিহত নেজাম উদ্দিন একজন দুর্ধর্ষ ডাকু প্রকৃতির লোক ছিলেন। পাহাড়ের বিভিন্ন গ্রামে গত দু’মাসের ব্যবধানে ডাকাতিসহ অনেক অপরাধ কর্মকান্ড সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয়রা আরো জানান, নেজাম উদ্দিন পাহাড়ে অপরাধীদের নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরী করে। ওই গ্রæপের প্রধান হচ্ছেন নিহত নেজাম উদ্দিন। গ্রæপের মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী। এ গ্রæপের অপর সদস্যদের মধ্যে টইটংয়ের মধুখালীর জোবাইর প্রকাশ কালা জোবাইর, জাফর মেম্বারের ছেলে জমির, মাহাবু আলীর ছেলে জোবাইর, আবু ছিদ্দিকের পুত্র মামুনের নামও উঠে এসেছে। পূর্ব ভারুয়াখালীর বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি পাহাড়ে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পাহাড়ী অঞ্চলের আধিপত্য নিতে নেজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে ওই গ্রæপটি দুর্গম স্থানে বিচরণ করে আসছে। তারা মানুষের বসতবাড়িতে ডাকাতি, চুরি চামারি ও লুটতরাজ অব্যাহত রেখেছে। এক সপ্তাহ আগে কাচারীমোড়ার ষ্টেশনে এক বাসিন্দাকে ভারুয়াখালীতে পাহাড়ে আটকিয়ে রাখে। এরপর পুলিশ গিয়ে পাহাড়ের দুর্গম এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। সাতকানিয়ার একজন ব্যবসায়ীকেও নেজাম উদ্দিন পাহাড়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। নেজাম উদ্দিন ৭ দিন আগে সদর ইউনিয়নের তেলিয়াকাটার আরিফকে ছুরিকাঘাত করে। সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম রব্বান জানান, আমরা যে টুকু জেনেছি ডাকাত ও ডাকাতদের মধ্যে এ হত্যাকান্ড হয়েছে। জোবাইর নামক ব্যক্তিসহ ডাকাত গ্রæপের সাথে নেজাম উদ্দিনের সংঘর্ষ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আত্মঘাতি হামলায় ওই ডাকাত নিহত হয়েছে। গোলাম রহমান প্রকাশ পুতু নামক ব্যক্তি জানান, নেজাম উদ্দিন একজন দুর্ধর্ষ ডাকাত। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে এখানে ব্যাপক ডাকাতি হয়েছে। পাহাড়ে চাঁদাবাজি, খুন খারাবী বেড়ে গিয়েছিল। এ সবের নেতৃত্ব দিয়েছে ডাকাত নেজাম। ১৫-২০ টি বাড়ি ঘর ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকাছাড়া হয়েছে। বিশেষ করে ধর্ষণ ও সম্ভ্রমহানির ভয়ে নেজাম উদ্দিনের কারণে রমজান আলীর স্ত্রী নাসিমা বেগম, ইলিয়াসের স্ত্রী পারভীন, প্রবাসী জয়নাল আবদীনের স্ত্রী ইয়াসমিন, নুরুচ্ছফার স্ত্রী ফাতেমা বেগম, প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী হামিদা বেগম, অপর এক প্রবাসীর স্ত্রী মমতাজ বেগমসহ আরো অসংখ্য মহিলা পাহাড় থেকে বাড়ি ঘর গুটিয়ে নিয়েছে শুধু মাত্র ডাকাত নেজাম উদ্দিনের ভয়ে। নুরুল কবির নামক একজন গ্রামবাসী জানান, ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে একই গ্রæপের মধ্যে দ্বন্ধের সুত্র ধরে এ হত্যাকান্ড হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তবে ওই দিন ডাকাত নেজামসহ পূর্ব ভারুয়াখালী আবুলের দোকানে বসে চা নাস্তা করেছে। সেটি আমরা জেনেছি। জোবাইরের শরীরেও কোপের আঘাত রয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি।